বিশেষ প্রতিনিধি : সাভারের আশুলিয়ায় চুরি যাওয়া অটোরিকশা উদ্ধারের ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় উল্টো এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের মাধ্যমে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেলো ১৯ ডিসেম্বর রুবেল মিয়ার মালিকানাধীন একটি অটোরিকশা ভাড়াটিয়া চালক সামছুল হকের মাধ্যমে চুরি হয়। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর রুবেল মিয়া জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে আইনী সহায়তা চাইলে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন তৎক্ষনাৎ অটোরিকশা উদ্ধারে অভিযানে নামে। এসময় অটোরিকশা মালিক রুবেল মিয়া জিপিআরএস সুবিধার মাধ্যমে জানতে তার অটোরিকশাটি আশুলিয়ার ভাদাইলের দক্ষিণপাড়া এলাকার সুজন মিয়ার গ্যারেজে রয়েছে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবগত করে।
অটোরিকশার অবস্হান নিশ্চিত হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন অটোরিকশা মালিক রুবেল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ওই গ্যারেজে অভিযান চালায়। এসময় গ্যারেজে চুরি যাওয়া অটোরিকশাটি শনাক্ত করা গেলেও তার রং ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়। এসময় অটোরিকশাটি জব্দের পাশাপাশি গ্যারেজ মালিক সুজন মিয়া ও অটোরিকশার রং পরিবর্তনকারী মিস্ত্রি গফুর মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অটোরিকশাটির ভাড়াটিয়া চালক সামছুল হক পলাতক থাকায় তাকে পাওয়া যায় নি।
অটোরিকশাটির প্রকৃত মালিক রুবেল মিয়া এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় কোন অভিযোগ কিংবা কোন মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিলে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটি এর মালিক রুবেল মিয়ার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একইসাথে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া গ্যারেজ মালিক সুজন মিয়া ও গফুর মিয়াকে অভিযোগকারী রুবেল মিয়ার উপস্থিতিতে তাদের নিজেদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র গ্যারেজ মালিক সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে অটোরিকশা চুরির অভিযোগ তুলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের চাঁদাবাজির এ ঘটনা জানাজানি হলে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অটোরিকশা উদ্ধারের ঘটনায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন এবং পরে তা ফেরত দেওয়ার কল্পকাহিনি এটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে।
গ্যারেজ মালিক সুজন মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন আমাদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নেয় নাই। তবে রং মিস্ত্রিকে রং করার মাল বাবদ কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন লোক আমাকে ফোন করে উল্টাপাল্টা কথা বলে মানসিক চাপে ফেলে মিথ্যা কথা বলানোর চেষ্টা করে। টাকা দেওয়ার অডিও রেকর্ডিংয়ের কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমি অশিক্ষিত সহজ সরল মানুষ। কিভাবে না বুঝে কোন প্রসঙ্গে কি বলেছি তা বুঝতে পারিনি।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক এসআই আনোয়ার হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, টাকা লেনদেনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিজেদের দোষ ঢাকার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে অপপ্রচার করছে যা মোটেও কাম্য নয়। এ ঘটনায় নিজের সম্মানহানীর কথা তুলে ধরে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহনের কথা জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
Leave a Reply